ইজরায়েলের আয়রন ডোম এবার ভারতের হাতে? মোদী-নেতানিয়াহু মেগা বৈঠকে বদলে গেল দুনিয়ার সমীকরণ

নিউজ ডেস্ক
ইজরায়েল সফরের দ্বিতীয় দিনে কূটনীতির এক নতুন ইতিহাস লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে উন্নত প্রযুক্তি— সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের বন্ধুত্ব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচির মাঝে মোদী ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বৈঠক ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। সূত্রের খবর, ভারতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সুদর্শন চক্র’ এবং ইজরায়েলের বিশ্বখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ প্রযুক্তির সমন্বয় নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন ভারতের আকাশসীমাকে কার্যত দুর্ভেদ্য করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিরক্ষা ছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবন নিয়ে একাধিক মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে এই বৈঠকে।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকস্ট স্মারক ‘ইয়াদ ভাশেমে’ গিয়ে নাৎসি হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্ৎসগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিকেল গড়াতেই শুরু হয় আসল কূটনৈতিক তৎপরতা। নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রতিনিধি স্তরের বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে দুই দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান মোদী।
এর আগে ইজরায়েলি সংসদ ‘কনেসেট’-এর বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন মোদী। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেখানে বক্তব্য রাখেন এবং তাঁকে ‘স্পিকার অফ দ্য কনেসেট মেডেল’-এ ভূষিত করা হয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইজরায়েলের পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
২০১৭ সালের সফরের রেশ ধরে এবারের সফরও দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করল। বিকেলের দিকে ইজরায়েলে বসবাসরত ভারতীয়দের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময়ের পর সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত ও ইজরায়েলের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।