ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাটার চিকেন উধাও ভারতীয় রেস্তোরাঁর মেনু থেকে

হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে চলা ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের পাতের খাবারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র এলপিজি সংকট। যার জেরে দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর মতো মেগাসিটির রেস্তোরাঁগুলো তাদের মেনু কার্ডে আমূল পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ভারতীয়দের অত্যন্ত প্রিয় পদ বাটার চিকেন ও ছোলে বাটুরের মতো খাবারগুলো অনেক জায়গাতেই মেনু থেকে বাদ পড়ছে। এর কারণ স্বাদ নয়, বরং রান্নার জ্বালানি খরচ। ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ রেস্তোরাঁ রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাব দেখা দেওয়ায় গ্রেভি-ভিত্তিক এবং ভাজা খাবার তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ এই ধরনের পদ রান্না করতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর গ্যাস খরচ হয়।
তবে তন্দুরি চিকেন, পনির টিক্কা, নান কিংবা গ্রিল করা স্ন্যাকস এখনও মেনুতে টিকে আছে। মূলত তন্দুর বা গ্রিলিং পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম জ্বালানি প্রয়োজন হওয়ায় রেস্তোরাঁ মালিকরা এই পদগুলোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ধোসা বা উত্তপম তৈরির তাওয়া দীর্ঘক্ষণ গরম রাখতে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস পোড়াতে হয়। ফলে অনেক দোকানি এখন ধোসার বদলে কম জ্বালানিতে তৈরি ভাত ও সাম্বার পরিবেশন করছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, অনেক ছোট খাবারের দোকান এখন শুধুমাত্র চা ও কফি বিক্রি করেই টিকে থাকার চেষ্টা করছে।