ইডি সিবিআই নিয়ে কেন ছাড় পাচ্ছে বামেরা, শ্রীরামপুরের সভা থেকে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ইডি সিবিআই নিয়ে কেন ছাড় পাচ্ছে বামেরা, শ্রীরামপুরের সভা থেকে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের পর এবার শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে বিরোধী দলগুলোকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম-বিজেপি আঁতাঁত থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা— একাধিক ইস্যুতে সরব হলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

শ্রীরামপুরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বেছে বেছে কেবল তৃণমূলকেই নিশানা করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্যমতে:

  • সিপিএমের কোনো নেতার বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআইয়ের তৎপরতা দেখা যায় না।
  • এর কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, সিপিএম তাদের “মাথা বিক্রি করে দিয়েছে” অর্থাৎ বিজেপির সাথে গোপন সমঝোতা করেছে।
  • তৃণমূলকে বারবার হেনস্থা করার কারণ হলো, বিজেপি জানে পশ্চিমবঙ্গ সহজে হার মানতে জানে না।

কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভোটের পরিকল্পনা

ভোটের ময়দানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বরাবরই সন্দিহান তৃণমূল নেত্রী। এদিনের সভা থেকেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে গ্রামেগঞ্জে ভোটদান প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি এই পদ্ধতিকে বাম আমলের ভোট পরিচালনার কায়দার সাথে তুলনা করে ভোটারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

নিয়োগ মামলা ও ট্রাইবুনাল প্রসঙ্গে অসন্তোষ

নিয়োগ মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অসন্তোষ গোপন করেননি। মঞ্চে উপস্থিত বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি জানতে চান, ট্রাইবুনাল গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালীন কীভাবে প্রথম দফার ভোটার লিস্ট ফ্রোজেন হয়ে গেল।

এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, নির্বাচন কমিশন এখনো ট্রাইবুনালের পরিকাঠামো তৈরি করেনি, যার ফলে সেটি কার্যকর হতে পারছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আবাসন বা পরিকাঠামো ছেড়ে দেওয়া হলেও আইনি জটিলতা কাটছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়।

রাজনৈতিক লড়াই ও ব্যক্তিগত ইচ্ছা

বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান যে, মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি জীবন দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে তাঁর ইচ্ছা করে এই পদ ছেড়ে দিয়ে পুনরায় আইনজীবী হিসেবে প্র্যাক্টিস শুরু করতে, কিন্তু মানুষের স্বার্থে তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না।

এক ঝলকে

  • প্রধান অভিযোগ: সিপিএম ও বিজেপি গোপন আঁতাঁত করে চলছে, তাই বাম নেতাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সি নেই।
  • এজেন্সি বিতর্ক: তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইডি-সিবিআই দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি।
  • বাহিনীর ভূমিকা: কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট আটকানোর পরিকল্পনার আশঙ্কা প্রকাশ।
  • আইনি জটিলতা: নিয়োগ সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল কার্যকর না হওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষোভ।
  • মমতার অবস্থান: প্রয়োজনে জীবন দিয়ে লড়াই এবং ভবিষ্যতে ওকালতি পেশায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *