ইতিহাসের দোরগোড়ায় ভারত, নারীশক্তি বন্দন নিয়ে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ইতিহাসের দোরগোড়ায় ভারত, নারীশক্তি বন্দন নিয়ে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত ‘নারী শক্তি বন্দন’ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মকে একুশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারত এখন এক নতুন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

নারী শক্তির ক্ষমতায়ন ও সামাজিক বিচার

প্রধানমন্ত্রী মোদী অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে দেশের নারী শক্তির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং সাম্য ও সামাজিক বিচার প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রধানমন্ত্রীর মতে, সামাজিক বিচার এখন আর শুধু স্লোগান নয়, এটি বর্তমান সরকারের কর্মসংস্কৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সংসদ থেকে শুরু করে রাজ্যের বিধানসভাগুলোতে নারীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ভারতীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও সংবেদনশীল করে তুলবে।

২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য

২০২৩ সালে যখন নতুন সংসদ ভবনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম উত্থাপন করা হয়েছিল, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত হয়ে এটি পাস করেছিল। প্রধানমন্ত্রী জানান:

  • বিরোধীরাও ২০২৯ সালের মধ্যে এটি কার্যকর করার বিষয়ে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন।
  • ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
  • এই আইনটি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে কোটি কোটি নারীর সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্বমঞ্চে ভারতের নারী শক্তির জয়গান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের নারীরা যেভাবে নিজেদের দক্ষতা ও সক্রিয়তার মাধ্যমে বিশ্বের বড় বড় নেতাদের এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অবাক করে দিচ্ছেন, তা দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে শাসনব্যবস্থায় মানবিকতা ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কাউকে উপদেশ দিতে আসেননি, বরং দেশের মা-বোনদের আশীর্বাদ নিতে এসেছেন।

উন্নত ভারতের সংকল্প

এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নারীদের স্বপ্নের ডানা মেলতে সাহায্য করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নারীদের এই জয়যাত্রা ভারতকে একটি সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ‘বিকসিত ভারত’ বা উন্নত ভারতের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

একঝলকে

  • নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মকে একুশ শতকের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা।
  • ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।
  • ২০২৯ সালের মধ্যে এই আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • বিধানসভা ও সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে গণতন্ত্র মজবুত করার প্রয়াস।
  • সমস্ত রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে সামাজিক ও লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *