ইতিহাসের দোরগোড়ায় ভারতের সংসদ, নারীশক্তির হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ: মোদী

একুশ শতকের ভারতের ইতিহাসে ‘নারী শক্তি বন্দন अधिनियम’ বা নারী শক্তি বন্দন আইনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে তিনি জানান, এই আইন কেবল নারী ক্ষমতায়ন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অতীতের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ এবং ভবিষ্যতের সংকল্প বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।
সক্রিয় বাস্তবায়নের পথে সংসদ ও বিশেষ অধিবেশন
নারী শক্তি বন্দন আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনের মাধ্যমে এই আইনটিকে কার্যকর করার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদ যখন এই বিলটি পাস করে, তখন সব রাজনৈতিক দলই সর্বসম্মতিক্রমে এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। চার দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই আইন এখন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বে নারী শক্তির জয়গান
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ভারতের বর্তমান নারী নেতৃত্বের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আজ রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মহিলারা আসীন। পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থাতেও নারী নেতৃত্বের অভাবনীয় সাফল্য চোখে পড়ার মতো।
- বর্তমানে দেশে ১৪ লাখেরও বেশি মহিলা স্থানীয় প্রশাসনে সক্রিয়।
- প্রায় ২১টি রাজ্যে পঞ্চায়েত স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
- প্রধানমন্ত্রীর মতে, মহিলাদের অধিক অংশগ্রহণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংবেদনশীলতা বাড়িয়েছে।
আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে সরকারি প্রকল্পের প্রভাব
শুধুমাত্র রাজনীতি নয়, অর্থনৈতিকভাবেও মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য প্রদান করেন:
- জনধন যোজনার অধীনে ৩২ কোটিরও বেশি মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
- মুদ্রা যোজনার আওতায় ৬০ শতাংশের বেশি ঋণ প্রদান করা হয়েছে মহিলা উদ্যোক্তাদের।
- দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের ৪২ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানে অন্তত একজন মহিলা পরিচালক রয়েছেন।এছাড়াও মাতৃত্বকালীন ছুটি ২৬ সপ্তাহ করা, ড্রোন দিদি উদ্যোগ এবং স্কিল ইন্ডিয়া মিশনের মতো প্রকল্পগুলো মহিলাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পাস হওয়া এই আইনে সংসদ ও বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সংবিধান রচনা— সবক্ষেত্রেই মহিলাদের অবদান অতুলনীয়। এখন সময় এসেছে তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ নিশ্চিত করার। বিজ্ঞান, খেলাধুলা, শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা জগতের বিশিষ্ট মহিলাদের উপস্থিতিতে তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, এই আইনটি ভারতের “উইমেন লেড ডেভেলপমেন্ট” বা নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের স্বপ্ন সফল করবে।
একঝলকে
- ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন আইন কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
- সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
- দেশের ২১টি রাজ্যে পঞ্চায়েত স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ বর্তমানে ৫০ শতাংশ।
- জনধন যোজনায় ৩২ কোটির বেশি মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ৪২ শতাংশ স্টার্টআপে মহিলা পরিচালক রয়েছেন।
- আগামী দিনে স্থানীয় প্রশাসন থেকে সংসদ পর্যন্ত মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে এই আইন মাইলফলক হতে চলেছে।