ইন্দাসে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ঘিরে গ্রাম্য মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভ

নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে বাঁকুড়ার ইন্দাস বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী নির্মল ধাড়াকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কোতুলপুর ব্লকের পাত্রবাঁধ গ্রামে প্রচারের সময় স্থানীয় মহিলারা প্রার্থীর গাড়ি আটকে ক্ষোভ উগরে দেন। মূলত এলাকার অনুন্নয়ন এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগেই এই জনরোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকায় অনুপস্থিতির অভিযোগ ও জনরোষ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায়নি বলে দাবি গ্রামবাসীদের। পাত্রবাঁধ গ্রামের মহিলারা অভিযোগ করেছেন যে, ভোট নিয়ে বিধায়ক হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে তিনি এলাকার মানুষের সমস্যার কথা শুনতে আসেননি। মঙ্গলবার বিকেলে যখন নির্মল ধাড়া একটি হুডখোলা গাড়িতে করে গ্রামে প্রবেশ করেন, তখন একদল মহিলা তাঁর পথ আটকে ধরেন। তাঁদের প্রধান প্রশ্ন ছিল, বিগত বছরগুলোতে এলাকায় কেন কোনো উন্নয়নের কাজ হয়নি এবং বিশেষ করে রাস্তার বেহাল দশা কেন ঘোচেনি।
উত্তেজনা ও পুলিশের ভূমিকা
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজেপি কর্মীরা মহিলাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রার্থীকে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কিন্তু নির্মল ধাড়া গাড়ি থেকে না নামায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে মহিলারা গাড়ির সামনে বসে পড়লে প্রচার অভিযান সাময়িকভাবে থমকে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রার্থীর গাড়ি এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের দিকে আঙুল তুলছে।
- বিজেপির দাবি: দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস এই বিক্ষোভকে ‘তৃণমূলের নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, রাজ্যে তৃণমূলের সরকার চলছে এবং পঞ্চায়েতের টাকা আত্মসাৎ হওয়ার কারণেই উন্নয়ন থমকে আছে। মানুষের নজর ঘোরাতে এই বিক্ষোভ করানো হয়েছে।
- তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: ইন্দাসের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদি পাল্টা আক্রমণ করে জানান, মানুষ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেওয়ার পর কাজ না করলে জনগণ তার কৈফিয়ত চাইবেই।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণ
ভোটের মুখে প্রার্থীর প্রতি এই ধরণের প্রকাশ্য জনরোষ বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রাস্তার মতো বুনিয়াদি পরিকাঠামোর অভাব ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রার্থীর গাড়ি থেকে না নামার বিষয়টিও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের দূরত্ব তৈরি করতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।