ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি

বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় আছড়ে পড়ল এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে যার তীব্রতা ছিল ৭.৪। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল মোলুকা সাগরের তলদেশে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উত্তর মোলুকা সাগরের টারনেট শহর এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে উচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ১৮ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার এই কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের লাদাখ অঞ্চলেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের লেহ এলাকায় ৪.৩ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭০ কিলোমিটার গভীরে। ভোরে মানুষ যখন ঘুমে মগ্ন ছিলেন, তখনই এই কম্পন অনুভূত হয়।
একই দিনে ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তরাঞ্চলেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে দিল্লির ক্ষেত্রে তীব্রতা অত্যন্ত কম থাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। অধিকাংশ মানুষ এই মৃদু স্পন্দন টেরও পাননি। তবে একদিনের ব্যবধানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এবং ভারতের উত্তর অংশে এই ঘনঘন ভূকম্পন সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখছেন।