ইপিএফও গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ৭ লক্ষ নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাচ্ছে কেন্দ্র

ইপিএফও গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ৭ লক্ষ নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাচ্ছে কেন্দ্র

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পিএফ অ্যাকাউন্টের জমানো টাকা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। শ্রম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, যে সমস্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅপারেটিভ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলির টাকা এবার সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা তাদের বৈধ উত্তরসূরিদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। মূলত কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রায় ৭.১১ লক্ষ এমন অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স রয়েছে। এই ক্ষুদ্র অংকের মোট ৩০.৫২ কোটি টাকা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ইপিএফও (EPFO)।

কেন এবং কাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে

ইপিএফও-র নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো পিএফ অ্যাকাউন্টে টানা ৩৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে কর্মচারী বা নিয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো অর্থ জমা না পড়ে, তবে সেই অ্যাকাউন্টটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩১.৮৬ লক্ষ নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে পড়ে আছে প্রায় ১০,৯০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে যে অ্যাকাউন্টগুলিতে ১,০০০ টাকা বা তার কম টাকা রয়েছে, সেই ৭ লক্ষ গ্রাহকের টাকা সরাসরি তাদের আধার-লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

যদি মূল গ্রাহক মৃত হন তবে কী হবে

যদি কোনো পিএফ অ্যাকাউন্টধারী ইতিমধ্যে মারা গিয়ে থাকেন, তবে সেই টাকা পাওয়ার অধিকারী হবেন তার মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) বা আইনত উত্তরাধিকারী। মৃত ব্যক্তির পরিবার যাতে কোনো রকম ঝক্কি ছাড়াই এই টাকা হাতে পায়, তার জন্য বিশেষ সরলীकरण প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।

পরিষেবায় আধুনিকীকরণ এবং ইপিএফও ৩.০

গ্রাহক ও সংস্থাগুলোকে আরও উন্নত এবং দ্রুত পরিষেবা দিতে কেন্দ্র এখন ‘ইপিএফও ৩.০’ (EPFO 3.0) প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে। ডিজিটাল পরিকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে দাবি নিষ্পত্তি বা ক্লেম সেটলমেন্টের সময় কমানো এবং স্বচ্ছতা আনাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। পিএফ গ্রাহকদের হয়রানি কমাতে এবং তাদের প্রাপ্য টাকা দ্রুত বুঝিয়ে দিতেই সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *