ইরানকে কাবু করতে ট্রাম্পের ম্যাডম্যান থিওরি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ

ইরানকে কাবু করতে ট্রাম্পের ম্যাডম্যান থিওরি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে আপাতত কামানের গর্জন থামল। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ইরান শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে এই কূটনৈতিক সাফল্যের নেপথ্যে কোনো কোমল আলোচনা নয়, বরং কাজ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক রণকৌশল, যা আন্তর্জাতিক মহলে ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ নামে পরিচিত।

কী এই ম্যাডম্যান থিওরি

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা পাগলের মতো আচরণ করার তত্ত্বটি প্রথম আলোচনায় আনেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষকে এমনভাবে বিশ্বাস করানো যে, রাষ্ট্রপ্রধান অত্যন্ত অননুমেয় এবং যেকোনো মুহূর্তে চরম বা বিধ্বংসী পদক্ষেপ নিতে পারেন। ট্রাম্প ঠিক এই পদ্ধতিটিই ইরানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হরমুজ প্রণালী ও ট্রাম্পের আল্টিমেটাম

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা নিয়ে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। গত রবিবার ট্রাম্প তেহরানকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, মঙ্গলবার মার্কিন সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে তেহরানকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর এই লাগাতার হুমকি বিশ্বজুড়ে এক অনিশ্চয়তা তৈরি করে। ইরান প্রথমে নতি স্বীকার না করলেও, ট্রাম্পের এই ‘অপ্রত্যাশিত’ আচরণের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সায় দেয়।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প তাঁর এই অনিশ্চিত আচরণকে একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক পিটার ট্রুবোয়িটজের মতে, ট্রাম্পের এই ভঙ্গি প্রতিপক্ষকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে বাধ্য করে। অন্যদিকে, অধ্যাপক এআই গিলেসপি মনে করেন, যুদ্ধ থামাতে বারবার চরম হুঁশিয়ারি দেওয়ার ফলে শত্রুপক্ষ বুঝতে পারে না হামলা আসলেও ঠিক কখন আসবে। এই ভয়ই শেষ পর্যন্ত তাদের চুক্তিতে বাধ্য করে।

তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে:

  • স্বৈরাচারী শাসকরা অনেক সময় এমন হুমকিতে ভয় না পেয়ে উল্টো আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
  • বারবার একই কৌশল ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা বা ‘ধার’ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই ধরনের অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *