ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন নিয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তা চীনের

ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন নিয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তা চীনের

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর মার্কিন হামলার হুমকি ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চরম হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি মুখ খুলল বেইজিং। জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং সাফ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের তীব্র বিরোধিতা করে চীন। তাঁর মতে, এ ধরনের হামলা কেবল অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী বলপ্রয়োগকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটির ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। এমনকি ইরানকে হামলার মাধ্যমে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বার্তার পর আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, আমেরিকা হয়তো ইরানের বেসামরিক পরিকাঠামো এবং অর্থনীতির মূল ভিত লক্ষ্য করে বড় কোনো অপারেশন চালাতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও আমেরিকার দ্বন্দ্বে সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও, চীনের এই প্রতিক্রিয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত ইরানের তেলের ৯০ শতাংশই কেনে চীন। ফলে ইরানের ওপর যেকোনো প্রভাব চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, সামরিক শক্তির প্রয়োগে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং এতে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হবে, যা কারোর জন্যই সুফল বয়ে আনবে না।

আমেরিকার হুমকির মুখে পিছু হটতে নারাজ তেহরানও। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকির কালিবাফ দাবি করেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রায় ৭০ লক্ষ ইরানি নাগরিক অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশজুড়ে এক বিশাল অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক নাগরিক মার্কিন স্থল অভিযান রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। যুদ্ধের আবহে ইরানের এই জাতীয়তাবাদী অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘পাষাণ যুগ’ বিতর্ক এবং চীনের কড়া অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক জটিল সমীকরণের মুখে। একদিকে ইরান যেমন সামরিক দিক থেকে নিজেদের সংহত করছে, অন্যদিকে চীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সরব হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন আর আঞ্চলিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্বশক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতার দিকে যায় নাকি বড় কোনো সংঘাতের সূচনা করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *