ইরানকে দমনে ট্রাম্পের ট্রাম্প কার্ড ভিয়েতনাম যুদ্ধের সেই ম্যাড ম্যান থিওরি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থান বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং চাপে রাখতে ট্রাম্প ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত ‘ম্যাড ম্যান থিওরি’ ব্যবহার করছেন।
কী এই ম্যাড ম্যান থিওরি
ম্যাড ম্যান থিওরি বা ‘উন্মাদ তত্ত্ব’ আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। এই তত্ত্বের মূল প্রবক্তা ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তিনি এই নীতি প্রথম কার্যকর করেন।
- এই তত্ত্বে একজন নেতা নিজেকে বিশ্বের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তিনি চরম খ্যাপাটে ও অনিশ্চিত।
- শত্রুপক্ষকে বিশ্বাস করানো হয় যে, এই নেতা নিজের লক্ষ্য অর্জনে যেকোনো চরম পদক্ষেপ, এমনকি পারমাণবিক হামলা চালাতেও দ্বিধা করবেন না।
- নেতার এই ‘অপ্রকৃতিস্থ’ আচরণের ভয়ে শত্রু পক্ষ সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়।
ইরান সংকটে ট্রাম্পের রণকৌশল
হরমুজ প্রণালী নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাঝে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তেহরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার মাধ্যমে তিনি মূলত শত্রুর মনে ভীতি সঞ্চার করতে চেয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার ঘটনা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ট্রাম্প এই কৌশলের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন।
ট্রাম্পের শাসানিতে বারবার ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠানো এবং তাদের সভ্যতা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লাগাতার হুমকিই ইরানকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় বসতে প্ররোচিত করেছে।
প্রভাব ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক পিটার ট্রুবোয়িটজের মতে, ট্রাম্প তার এই আপাত উন্মাদ আচরণকে একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছেন। তবে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
অধ্যাপক গিলেসপি মনে করেন, ইরানের মতো বেপরোয়া দেশ সবসময় এই হুমকিতে ভয় না-ও পেতে পারে; বরং এটি তাদের আরও সাহসী করে তুলতে পারে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক জুলি নরম্যান সতর্ক করেছেন যে, একই কৌশল বারবার প্রয়োগ করলে সময়ের সাথে সাথে এর গুরুত্ব বা ধার কমে যেতে থাকে।