ইরানকে দমাতে ট্রাম্পের বড় চাল, হরমুজ প্রণালীতে শুরু হচ্ছে আমেরিকার কঠোর পাহারাদারি

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা কোনো ফল না আনায় এবার সরাসরি সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে সমুদ্রপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোর্মুজ প্রণালী ঘিরে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
মার্কিন অবরোধের রূপরেখা ও জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ
সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় থেকে ইরানের বন্দর অভিমুখে আসা বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া যেকোনো দেশের জাহাজের ওপর এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের সমস্ত ইরানি বন্দর এই নাকেবন্দীর আওতায় থাকবে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দর ব্যবহার না করে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে হোর্মুজ প্রণালী দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াত করবে, তাদের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। এই নজরদারি বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মতো শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
ইরানের কঠোর পালটা হুঁশিয়ারি
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি যুদ্ধংদেহী আচরণ হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে বিধ্বংসী সামরিক শক্তিতে। আইআরজিসি-র মতে, হোর্মুজ প্রণালীতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা হুমকি দিয়ে বলেছে যে, কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে শত্রু পক্ষ “হোর্মুজের প্রাণঘাতী ঘূর্ণাবর্তে” আটকা পড়বে। ইরানের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা আমেরিকার চাপের মুখে মাথানত করতে রাজি নয়।
সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এই অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে শর্ত মানতে বাধ্য করতে চায়। মূলত ইরানের অর্থনীতি এবং জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে দেশটির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করাই ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল। তবে এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। যদি ইরান সত্যিই পাল্টা হামলা চালায়, তবে তা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
একঝলকে
- কার্যকরী তারিখ: ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে সমুদ্রপথ অবরোধ শুরু।
- মার্কিন নেতৃত্ব: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে CENTCOM এই নাকেবন্দী পরিচালনা করছে।
- লক্ষ্য: ইরানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা এবং সমুদ্রপথে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা।
- ইরানের অবস্থান: আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে কড়া সামরিক জবাব ও মারণ ফাঁদের হুঁশিয়ারি।
- যুদ্ধজাহাজ: পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।
- যোগাযোগ: ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।