“ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেব!” ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যেতেই ট্রাম্পের হুঙ্কার

ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা ব্যাপী চলা শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশ দুটির মধ্যে এই বৈঠককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে পরমাণু কর্মসূচি ও বাণিজ্যিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে এই আলোচনা।
ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, ইরান তাদের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি নয়। এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে তিনি প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকার মূল লক্ষ্য ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া।
হরমোজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর নাকেবন্দি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘স্ট্রেট অফ হরমোজ’ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেনি। এর প্রেক্ষিতে আমেরিকার সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো হলো:
- মার্কিন নৌবাহিনী এই জলপথে চলাচলকারী সকল জাহাজের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করবে।
- জলপথে নাকেবন্দি বা ব্লকেড তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
- যেসব জাহাজ ইরানকে অবৈধ শুল্ক প্রদান করবে, মার্কিন বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দেবে না।
- সমুদ্রের নিচে ইরানের বিছানো মাইন বা বারুদি সুড়ঙ্গ অপসারণের কাজ শুরু করার সংকেত দিয়েছে আমেরিকা।
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও ব্যর্থতার কারণ
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, আব্বাস আরাগচি এবং আলী বাঘেরির মতো শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও মূল সংকট কাটেনি।
- পরমাণু ইস্যু: ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
- আঞ্চলিক অস্থিরতা: জলপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের কর্মকাণ্ডে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি ট্রাম্পের।
- কূটনৈতিক দূরত্ব: দীর্ঘ সময় বৈঠক চললেও উভয় পক্ষ কোনো লিখিত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বৈশ্বিক চাপ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করেছেন যে, হরমোজ প্রণালীতে নাকেবন্দি তৈরির মাধ্যমে ইরানের ওপর ‘বৈশ্বিক চাপ’ তৈরি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনে অন্য দেশগুলোকেও শামিল করার পরিকল্পনা রয়েছে আমেরিকার। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী বা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি হামলার চেষ্টা করা হলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
একঝলকে
- পাকিস্তান আলোচনা ব্যর্থ: ২০ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ।
- ট্রাম্পের হুমকি: প্রয়োজনে ইরানের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
- পরমাণু সংকট: পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করায় আলোচনা ভেস্তে গেছে।
- জলপথ নিয়ন্ত্রণ: স্ট্রেট অফ হরমোজে নজরদারি ও নাকেবন্দি শুরু করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
- বৈশ্বিক অস্থিরতা: দুই দেশের সংঘাতের আবহে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা।