ইরানকে ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতলেই চরম সামরিক পরিণতির সতর্কতা

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে ইরানকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতে রাখার আশঙ্কার মধ্যেই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি এই জলপথে কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের এমন ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার কাছে ইরান কর্তৃক মাইন বসানোর কোনো নিশ্চিত রিপোর্ট না থাকলেও, যদি এমনটা ঘটে থাকে তবে তা অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না এবং মাইন না সরালে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে। এর কিছু পরেই ট্রাম্প জানান, মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত ১০টি ছোট জাহাজ গত কয়েক ঘণ্টায় ধ্বংস করা হয়েছে। মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিশেষ প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি ভিডিও প্রকাশ করে সমুদ্রসীমায় তাদের শক্তি প্রদর্শনের কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ইরানি হস্তক্ষেপ রুখতে এবং বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা এখনই নাকচ করা হচ্ছে না। ‘এপিক ফিউরি’ নামক এই সামরিক অভিযান লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার এই সংঘাতের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব এবং কাতারের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই সরবরাহ হয়। ফলে এই জলপথে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি ও গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।