ইরানকে রুখতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’র প্রস্তুতি, পাক সেনাপ্রধানের সৌদি সফরে তুঙ্গে জল্পনা

ইরানকে রুখতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’র প্রস্তুতি, পাক সেনাপ্রধানের সৌদি সফরে তুঙ্গে জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলার মোকাবিলায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের জল্পনা উসকে দিয়ে সৌদি আরব সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। শনিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অনুরূপ বিধান রয়েছে। বর্তমানে তুরস্ককেও এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরানের আগ্রাসন রুখতে যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কড়া বার্তা দিতেই এই গোপন সামরিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আরামকো তেল শোধনাগারে হামলার পর পাকিস্তান কেবল নিন্দাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না কি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও সৌদি আরব যে তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির মান রাখতে পাল্টা ব্যবস্থার পথেই হাঁটছে, আসিম মুনিরের এই সফর সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার বর্ম তৈরিতে এই জোট এখন অত্যন্ত সক্রিয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *