ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জ্বলছে বাহরাইনের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বা পকো এনার্জিস

ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশ বাহরাইনের বৃহত্তম তেল শোধনাগার ‘বাপকো এনার্জিস’-এ বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ভোরে এই হামলার পর শোধনাগারের স্টোরেজ ট্যাঙ্কে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই পুরো এলাকা আগুনের লেলিহান শিখায় ঢেকে যায়। ইরান সরকারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সেই রোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিস্ফোরণের পর আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
তেল শোধনাগার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয় এবং বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এই হামলায় শোধনাগারের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে কো ম্পা নিটি। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার শুরুতে দেশজুড়ে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয় এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে জানা গেছে যে, গত মাসেও একই স্থাপনা লক্ষ্য করে অনুরূপ হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। যদিও সেই যাত্রায় বড় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এবারের হামলাটি ওই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বাহরাইনের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে আঘাত হানল তেহরান।
হামলার পাশাপাশি ইরান মার্কিন সামরিক শক্তির সক্ষমতা নিয়ে বিদ্রূপ করেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগরি দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী একটি সি-১৩০ বিমান এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে একে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘চরম ব্যর্থতা’ এবং তাদের শক্তির অন্তঃসারশূন্যতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই সংঘাত গালফ বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই অঞ্চলে মার্কিন বা ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। বাহরাইনের তেল শোধনাগারে এই হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে।