ইরানি ড্রোনের নিশানায় ওমানের তেল ভাণ্ডার সালালাহ বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা নিল ওমানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায়। এই অতর্কিত হামলায় বন্দরের তেল মজুত রাখার ট্যাঙ্কে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ফলে গোটা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর জ্বালানি ট্যাঙ্ক থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া আকাশে উঠছে। এই ঘটনা ওই অঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামোর নিরাপত্তাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বন্দর লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ছোঁড়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোনকে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রুখে দিতে সক্ষম হলেও বাকিগুলো সরাসরি জ্বালানি ট্যাঙ্কে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের পরপরই সেখানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বন্দরের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরব সাগরের তীরে অবস্থিত সালালাহ বন্দরটি ওমানের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই বন্দরে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হামলার পর অনেক জাহাজ সংস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের নিরাপত্তা ও চলাচলের রুট নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার আবহেই এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানের ড্রোনকে দায়ী করা হচ্ছে, তবে তেহরান এই ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।