ইরানি মাজিদ সিস্টেমের কামড়ে ৭ মার্কিন বিমান ধ্বংস, পেন্টাগনের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে তেহরানের রণকৌশল

ইরানি মাজিদ সিস্টেমের কামড়ে ৭ মার্কিন বিমান ধ্বংস, পেন্টাগনের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে তেহরানের রণকৌশল

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে মার্কিন আধিপত্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বায়ুসেনা ধ্বংসের দাবি করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি সংঘাতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিমান হারিয়েছে ওয়াশিংটন। গত ২ মার্চ কুয়েতে ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের মাধ্যমে যে ক্ষতির শুরু হয়েছিল, তা ইরাকে কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার এবং সৌদির প্রিন্স সুলেমন এয়ারবেসে ই-৩ সেন্ট্রি বিমান দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও ঘনীভূত হয়েছে। সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে তালিকায় যুক্ত হয়েছে একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান।

সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে ইরান মূলত ‘মিনিমাম রিসোর্স’ বা ন্যূনতম অস্ত্রে সর্বোচ্চ আঘাত হানার কৌশলে হাঁটছে। পেন্টাগন যখন বিশালাকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে, তখন তেহরান তাদের নিজস্ব ‘মাজিদ সিস্টেম’ ব্যবহার করে বাজিমাত করছে। এটি মূলত ট্রাকে বসানো একটি ভ্রাম্যমাণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা রাডার নয় বরং ইনফ্রারেড গাইডেন্স সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। ফলে অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির বিমান বা ড্রোনও এর ইনফ্রারেড সেন্সর এড়াতে পারছে না। লক্ষ্যবস্তুর নির্গত তাপ শনাক্ত করে মাজিদ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানছে।

প্রযুক্তিগতভাবে মাজিদ সিস্টেমে যুক্ত থাকা ‘কাশিফ-৯৯ ফেজড-অ্যারে সিস্টেম’ এর ট্র্যাকিং ক্ষমতাকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। একবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুকে ধাওয়া করে ধ্বংস করে। বিশেষ করে নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান, হেলিকপ্টার এবং ক্রুজ মিসাইলের বিরুদ্ধে এটি এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্রাম্যমাণ হওয়ায় এটি দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিকেও ধন্দে ফেলে দিচ্ছে। আমেরিকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিপরীতে ইরানের এই সাশ্রয়ী অথচ প্রাণঘাতী রণকৌশল এখন পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *