ইরানি মিসাইল রুখতে কতটা শক্তিশালী সৌদি ও আরব দেশগুলো? দেখে নিন সামরিক শক্তির খতিয়ান

ইরানি মিসাইল রুখতে কতটা শক্তিশালী সৌদি ও আরব দেশগুলো? দেখে নিন সামরিক শক্তির খতিয়ান

ইরানের মুহুর্মুহু মিসাইল হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, কার ভাণ্ডারে কত অস্ত্র রয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে কে কতটা এগিয়ে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।

সৌদি আরব: মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সামরিক শক্তি

সৌদি আরবের আকাশসীমা রক্ষায় রয়েছে ‘পিস শিল্ড’ নামক অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এছাড়া ৩০০টিরও বেশি এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো যুদ্ধবিমান তাদের বিমান বাহিনীকে অপরাজেয় করে তুলেছে। ২০২৪ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৮০.৩০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৪৫টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই): প্রযুক্তিতে সেরা

ইউএই কেবল রক্ষণাত্মক নয়, বরং একটি সক্রিয় সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে রয়েছে এফ-১৬ এবং মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের বিশাল বহর। এছাড়া আকাশপথে হামলা রুখতে তারা প্যাট্রিয়ট এবং ‘থাড’ (THAAD)-এর মতো বিশ্বের সেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। ২০২৪ সালে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ২২.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

কাতার: ছোট দেশ, আধুনিক সমরসম্ভার

জনসংখ্যায় ছোট হলেও কাতারের হাতে রয়েছে রাফাল এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান। দেশটির আল উদেদ এয়ারবেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যা কাতারের নিরাপত্তায় কৌশলগত সুবিধা দেয়। ২০২৪ সালে তাদের সামরিক বাজেট ছিল ১৫.৪১ বিলিয়ন ডলার।

কুয়েত ও বাহরাইন: বাড়ছে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

  • কুয়েত: ৩৬৭টি ব্যাটল ট্যাঙ্ক এবং এফএ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে কুয়েত। ২০২৪ সালে তাদের বাজেট ছিল ৭.৭৯ বিলিয়ন ডলার।
  • বাহরাইন: কৌশলগত কারণে বাহরাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর মোতায়েন রয়েছে। তাদের হাতে রয়েছে আধুনিক ব্লক ৭০ ভ্যারিয়েন্টের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলো মূলত আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তবে ইরানের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও মিসাইল হুমকি মোকাবিলায় এই দেশগুলো এখন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে মরিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *