ইরানের অনমনীয় অবস্থান ও ট্রাম্পের পাল্টা হুঙ্কার, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ

ইরান সরাসরি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল রূপ নিয়েছে। দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে তেহরান কোনোভাবেই পিছু হটবে না। বর্তমানে যুদ্ধের ২২তম দিনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী শত্রুদেশের জাহাজের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে আরব দুনিয়ায় শান্তির পথ আপাতত রুদ্ধ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া সুর বজায় রেখে জানিয়েছেন যে তিনি এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির পক্ষপাতী নন। তবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় রেখে তিনি সামরিক অভিযান কিছুটা গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে চিন ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন। ন্যাটোর ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে তাদের ‘কাগুজে বাঘ’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও এই যুদ্ধ নিয়ে মতভেদ বাড়ছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওয়াশিংটনের অনেক হিসাব ওলট-পালট হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে তিনজন মার্কিন আধিকারিক পদত্যাগ করেছেন এবং গোয়েন্দা রিপোর্টেও তেহরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে, একদিকে ইরানের জেদ এবং অন্যদিকে আমেরিকার দ্বিমুখী কৌশলে আন্তর্জাতিক মহলে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।