ইরানের আকাশসীমায় ধরাশায়ী মার্কিন দম্ভ: তিন দশক পর ফিরল ‘মোগাদিশু’ স্মৃতি

ইরানের আকাশসীমায় ধরাশায়ী মার্কিন দম্ভ: তিন দশক পর ফিরল ‘মোগাদিশু’ স্মৃতি

দীর্ঘ তিন দশক পর মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দম্ভ চুরমার করে দিল ইরান। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম শত্রুপক্ষের সরাসরি হামলায় আকাশেই ধ্বংস হলো আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ইরানের ‘মাজিদ’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লায় পড়ে ভূপতিত হয়েছে একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান। এই ঘটনাটি ১৯৯৩ সালের সোমালিয়ার সেই ঐতিহাসিক ‘ব্যাটেল অফ মোগাদিশু’র দুঃস্বপ্নকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে মার্কিন ব্ল্যাক হক কপ্টার ধ্বংস করে তাদের অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল স্থানীয় যোদ্ধারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের দাবিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। বর্তমানে নিখোঁজ এক পাইলটের সন্ধানে যাওয়া দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানি বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়। আসামর্থিত সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্ধার অভিযানেও আমেরিকার একটি কপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এর ফলে ইরানের দুর্ভেদ্য আকাশসীমার সামনে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে যেভাবে আঠারো জন সেনার মৃত্যুতে আমেরিকা সেখান থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ফিরতে বাধ্য হয়েছিল, ইরানেও পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। পাইলট উদ্ধার এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে পেন্টাগন এখন ঠিক কতটা মরিয়া হয়ে ওঠে, সেটিই দেখার বিষয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের সমীকরণ বদলে দিতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *