ইরানের আকাশসীমায় ধ্বংস দ্বিতীয় মার্কিন এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান

ইরানের আকাশসীমায় ধ্বংস দ্বিতীয় মার্কিন এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার আবহে আমেরিকার আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করল ইরান। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নিশানায় মার্কিন এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়েছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের মধ্যাঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সমস্ত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার পরই দ্বিতীয় মার্কিন বিমান ধ্বংসের এই দাবি হোয়াইট হাউসের উদ্বেগ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চও একটি এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি করেছিল তেহরান। মুম্বইয়ে ইরানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে সেই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা হয়েছে।

তবে ইরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবি সরাসরি খারিজ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সমস্ত যুদ্ধবিমান সুরক্ষিত রয়েছে এবং আইআরজিসি বারবার এমন ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য নিয়মিত এই ধরনের তথ্য পেশ করে থাকে। পাল্টা জবাবে আমেরিকাও ইরানের মাটিতে বড়সড় স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

একই দিনে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরান এদিন ইজরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পালটা তেহরান ও ইসফাহান শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ইরানি ড্রোন হামলার জেরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যানের জবাবে মার্কিন হামলায় ইরানের বৃহত্তম সেতু ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন নৌসেনার বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইতিমধ্যেই ক্রোয়েশিয়া থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *