ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবার চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নিখোঁজ পাইলট ও ক্রু সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে, দুই দেশ বর্তমানে কার্যত যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিমান হারানো যুদ্ধেরই একটি অংশ এবং আমেরিকা বর্তমানে যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। তবে নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে কোনো বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সামরিক নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি কেবল এটুকুই জানিয়েছেন যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাইলটদের কোনো ক্ষতি হলে বা তারা ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের পর ইরানের আকাশে প্রথম কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান হারানোর ঘটনা।
এদিকে তেহরান দাবি করেছে যে, শুধু এফ-১৫ নয়, তারা পারস্য উপসাগরের হরমোজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন এ-১০ ওয়ারথগ বিমানও ভূপাতিত করেছে। যদিও মার্কিন সূত্র মতে, এ-১০ বিমানের পাইলট নিরাপদে কুয়েত সীমান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন এবং তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইরান এই হামলাগুলোকে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের রক্ষণাত্মক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, তাদের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশের কড়া জবাব দেওয়া হবে।
পেন্টাগনের তথ্যানুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এ পর্যন্ত ২৪৭ জন মার্কিন সৈন্য আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করাই মার্কিন কমান্ডের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো মার্কিন পাইলট ইরানি সেনাদের হাতে বন্দি হন, তবে তা একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বন্দি সংকটের জন্ম দিতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন কূটনীতির পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে চরম সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
বর্তমানে নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে যখন একের পর এক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে, তখন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা ঘি-এ আগুন দেওয়ার মতো কাজ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন কোনো পাল্টা আক্রমণ চালাবে কিনা, তা নিয়ে এখন সারা বিশ্বের নজর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে।