ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন রিকভারি অপারেশন: রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উদ্ধার ৩ পাইলট

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন রিকভারি অপারেশন: রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উদ্ধার ৩ পাইলট

দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালায় ভেঙে পড়া মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিমানের পাইলট ও অস্ত্র সিস্টেম অফিসারকে (ডব্লিউএসও) উদ্ধার করতে একটি অত্যন্ত জটিল ও সাহসিকতাপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যান্ত্রিক গোলযোগ নয়, বরং ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিকূল ভূখণ্ড এবং শত্রুসেনার ড্রাগনেট এড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টার এই অভিযানে প্যারাশুট দিয়ে নামা পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ডব্লিউএসও-কে উদ্ধারে মার্কিন বিশেষ বাহিনীকে দীর্ঘ লড়াই চালাতে হয়।

অভিযান চলাকালীন মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং এ-১০ ওয়ারথগ বিমান ইরানি স্থলবাহিনীর গতিবিধি রুখতে নিখুঁত হামলা চালায়। যদিও একটি এ-১০ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কুয়েতে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় এবং ডব্লিউএসও-কে উদ্ধারের চূড়ান্ত পর্যায়ে অন্তত দুটি এমসি-১৩০ ট্রান্সপোর্ট বিমান ধ্বংস হয়, তবুও কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেনি। ডেল্টা ফোর্স ও সিল টিম সিক্সের মতো অভিজাত বাহিনী দুর্গম পাহাড়ে অবতরণ করে ডব্লিউএসও-কে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মার্কিন সেনাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই অপারেশনটি আধুনিক ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (CSAR)-এর ইতিহাসে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ইরান ধ্বংসাবশেষের কিছু ছবি দেখিয়ে প্রোপাগান্ডা চালানোর চেষ্টা করলেও, কোনো মার্কিন সেনাকে বন্দি করতে না পারায় কৌশলগতভাবে এটি ওয়াশিংটনের একটি নৈতিক বিজয় হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *