“ইরানের আর কোনো চাল নেই, ওরা এখন পুরোপুরি শক্তিহীন!” — হুঙ্কার দিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

গত কয়েক দশকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন এক মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন তলানিতে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের হাতে আর কোনো শক্তিশালী বিকল্প বা ‘দাও’ অবশিষ্ট নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্য ও ইরানের বর্তমান দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক তৎপরতার ফলে ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
- সামরিক শক্তির অপচয়: ইরান তাদের জাতীয় বাজেটের একটি বিশাল অংশ অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক খাতে ব্যয় করলেও মার্কিন অভিযানে তার বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
- নৌবাহিনীর বিপর্যয়: ট্রাম্পের তথ্যমতে, ইরানের প্রায় ১৫৮টি যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে সমুদ্রের তলদেশে। এর মধ্যে ‘সুলেমানি’ নামক একটি অত্যাধুনিক জাহাজ মার্কিন সাবমেরিন ‘টাইগার শার্ক’-এর আক্রমণে ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
- নেতৃত্বের পরিবর্তন: আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করলেও ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের শাসন ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
কূটনৈতিক চাপ ও আমেরিকার কঠোর অবস্থান
দীর্ঘদিন ধরে ইরান বিরোধী স্লোগান এবং কড়া ভাষায় কথা বললেও বর্তমানে দেশটি আলোচনার টেবিলে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের কৌশলগত অবস্থানগুলো হলো:
- পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি কোনো আংশিক সমঝোতায় বিশ্বাসী নন। চুক্তির ৯০ বা ৯৫ শতাংশ নয়, বরং ১০০ শতাংশ শর্তই আমেরিকার অনুকূলে থাকতে হবে।
- মনস্তাত্ত্বিক জয়: ট্রাম্পের মতে, তার কঠোর ভাষা এবং অনমনীয় অবস্থানের কারণেই ইরান এখন সমঝোতার পথে হাঁটছে।
- আন্তর্জাতিক নীরবতা: ইরানের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা না থাকায় ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যা তার একলা চলো নীতির যৌক্তিকতা তুলে ধরে।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ প্রভাব ও সামরিক দাপট
এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা এবং জনসমর্থনের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, দেশটির ৯৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে সেনাবাহিনীর ওপর। বিপরীতে, মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও কংগ্রেসের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও তিনি এই সাক্ষাৎকারে সামনে আনেন।
একঝলকে
- ইরানের সামরিক শক্তি বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল এবং আলোচনার টেবিলে তাদের কোনো জোরালো অবস্থান নেই।
- আমেরিকার আক্রমণে ইরানের প্রায় ১৫৮টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
- ট্রাম্প কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে ইরানের ওপর সম্পূর্ণ মার্কিন শর্ত চাপিয়ে দিতে চান।
- ইরানের ক্রমাগত আমেরিকা ও ইসরায়েল বিরোধী স্লোগানকে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্ব না দেওয়ায় ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
- আমেরিকার সামরিক বাহিনী জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেলেও মিডিয়া ও কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা কমেছে।