ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখলে নিতে পারে মার্কিন সেনা, উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া
ইরানের মজুত করা ইউরেনিয়াম দখল করতে এক অত্যন্ত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এবং নজিরবিহীন সামরিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পোস্টের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই বিশেষ অভিযানের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের মাটিতে সরাসরি কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করার প্রয়োজন হতে পারে, যা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দেবে।
এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা, বিশেষ করে ইসফাহান ও নাতানজের মতো কেন্দ্রে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের এই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে ১,০০০ পাউন্ডেরও বেশি তেজস্ক্রিয় পদার্থ মজুত রয়েছে। তবে এই অভিযানটি কেবল বিমান হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থলভিত্তিক অভিযান চালাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সামরিক তৎপরতা অত্যন্ত জটিল হতে চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে মজুত ইউরেনিয়াম আগের বিমান হামলার ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে, যা উদ্ধার করা প্রায় আসাম্ভব এক কাজ। প্রাক্তন বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি যেমন ধীরগতির, তেমনই এটি মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। এক প্রাক্তন প্রতিরক্ষা আধিকারিক এই অভিযানের গভীরতা বোঝাতে বিষয়টিকে একটি আস্ত অ্যাসেম্বলি লাইন কিনে নেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অন্যদিকে, এই সামরিক পরিকল্পনার বিকল্প ভাবনাও উঠে আসছে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল জোসেফ ভোটেল মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা বা আইএইএ (IAEA)-র মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম অপসারণ করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। তাঁর মতে, সরাসরি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে অসংখ্য প্রাণের ঝুঁকি ও কৌশলগত বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।
বর্তমানে এই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে। ইরান এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।