ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ভয়াবহ হামলার পর ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ভয়াবহ হামলার পর ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

ইরানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেতু বি-১ এ ভয়াবহ হামলার পর তেহরানকে সরাসরি কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের বৃহত্তম এই সেতুটি হামলার ফলে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার পরপরই ট্রাম্প আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, তেহরানের উচিত এখনই চুক্তিতে সম্মত হওয়া, অন্যথায় অনেক দেরি হয়ে যাবে। তিনি আরও সতর্ক করে জানান, ইরান যদি নিজেদের বর্তমান অবস্থান না বদলায়, তবে দেশটি বড় শক্তি হওয়ার সুযোগ চিরতরে হারাবে।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমের শহর কারাজকে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে ব্রিজে এই হামলা চালানো হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশাল সেতুটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এলাকাটি আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই হামলায় অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও ট্রাম্পের বক্তব্যে এই হামলার নেপথ্যে আমেরিকার ভূমিকার ইঙ্গিত মিলেছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই হামলার বিষয়ে কিছুই জানে না।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, নাগরিক পরিকাঠামো বা আসাম্পূর্ণ সেতুতে হামলা চালিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বৃহস্পতিবারই ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিয়েছে। তেহরানের এই অনড় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রণালীটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে ব্রিটেনসহ ৩৫টি দেশ আলোচনা শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে এই পথ দখল করা সম্ভব। তবে আমেরিকার বদলে যে দেশগুলো এই তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরই অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে পর্যন্ত বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই কঠোর হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণাত্মক নীতি মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছে। একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তির জন্য চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ইরান তাদের কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সংঘাতের জল কতদূর গড়ায় এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। পেশাদার মহলের মতে, এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *