ইরানের চোখে ধুলো নাকি গোপন সমঝোতা? অন্য পথে হরমুজ পার হলো ভারতের দুই বিশাল গ্যাস ট্যাঙ্কার

পারস্য উপসাগরে ইরান-আমেরিকা চরম উত্তেজনার মাঝে রুট বদলে রহস্য বাড়াল ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘জাগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’। প্রচলিত ছোট পথ ছেড়ে কেন দীর্ঘ ও দুর্গম কেশম-লারাক চ্যানেল বেছে নিল জাহাজ দুটি? রণকৌশল নাকি তেহরানের কড়া নজরদারি— তা নিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা।
গোপন সংকেতে মিলল ছাড়পত্র?
ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় জাহাজ দুটি তাদের পরিচয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ‘IND SHIP’ এর বদলে ‘PINE GAS INDIAN SHIP’ বা ‘JGVASNTINDSHIPINDCRW’ লিখে সিগন্যাল পাঠানো হয়। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ঝুঁকি এড়াতে এবং ইরানের বিশেষ অনুমতি পেতেই এই কৌশল। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে চলা কূটনৈতিক আলোচনার জেরেই এই ‘নিরাপদ করিডোর’ মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটে স্বস্তি
প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে দেশে ফিরছে এই দুই দানবীয় জাহাজ, যা ভারতের এক দিনের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ভারতের আরও ২০টি জাহাজ আটকে আছে, যাতে মজুত রয়েছে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস। ‘জাগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ নিরাপদে পৌঁছলে ভারতের জ্বালানি ভাণ্ডারে বড়সড় স্বস্তি ফিরবে। তবে আইআরজিসি-র (IRGC) কড়া নজরদারি ও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।