ইরানের জ্বালানি আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, স্বস্তিতে নয়াদিল্লি

ইরানের ওপর থেকে তেল আমদানির নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত। মূলত কাতার ও ইরানের তেলক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় চাপে পড়ে ওয়াশিংটন। এছাড়া হরমুজ প্রণালী নিয়ে ন্যাটো দেশগুলোর সমর্থন না পাওয়া এবং মার্কিন অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাবের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল দ্রুত বিশ্ববাজারে আসার পথ প্রশস্ত হলো। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান যেমন আর্থিক ক্ষতি সামলে ওঠার সুযোগ পাবে, তেমনি হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউরোপীয় মিত্রদের অসহযোগিতা এবং জ্বালানি সংকটের মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কার্যত ইরানের কৌশলগত বিজয়। আমেরিকার এই নীতি পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের জন্য এই খবর অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। ইরান থেকে কম খরচে ও দ্রুত জ্বালানি আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের তেল শোধনাগার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে। ইতিপূর্বে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল হলেও, এখন পুনরায় ইরান থেকে আমদানির জন্য তিনটি সংস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ছাড়পত্র চেয়েছে। ভারত ও জাপানের মতো দেশগুলো এই আমদানির ফলে সরাসরি উপকৃত হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।