ইরানের ডেরায় আত্মগোপন, মার্কিন পাইলটের প্রাণ বাঁচাবে বিশেষ এসইআরই কৌশল

ইরান ও আমেরিকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ এক পাইলট। শত্রু শিবিরের ভেতরে থেকেও কীভাবে নিজেকে আড়ালে রেখেছেন তিনি, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। মার্কিন বায়ুসেনার বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং তাদের অত্যাধুনিক ‘সারভাইভ্যাল কিট’ এই মুহূর্তে ওই পাইলটের একমাত্র রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন পাইলটদের মূলত ‘SERE’ (সারভাইভাল, ইভেশন, রেজিস্ট্যান্স ও এস্কেপ) পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই কৌশলের মূল মন্ত্র হলো প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকা, শত্রুকে এড়িয়ে চলা এবং সুযোগ বুঝে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসা। প্যারাশুটে করে বিমান থেকে লাফিয়ে পড়ার মুহূর্তেই পাইলটের সঙ্গে থাকে একটি বিশেষ কিট, যা অত্যন্ত দুর্গম পরিস্থিতিতেও তাকে সাত দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে সক্ষম।
এই লাইফলাইন কিটে মজুত থাকে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, জল এবং জরুরি ওষুধ। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে বাঁচতে দেওয়া হয় থার্মাল ব্ল্যাঙ্কেট। শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য কিটে থাকে বিশেষ রাইফেল, যা প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করা যায়। উদ্ধারকারী দলের কাছে নিজের অবস্থান জানানোর জন্য এতে স্মোক বম্ব, স্ট্রোব লাইট ও গ্লো-স্টিক থাকে। এমনকি সমুদ্রে নিখোঁজ হলে আকাশ থেকে শনাক্ত করার জন্য ‘সি ডাই’ নামক এক বিশেষ রাসায়নিকও কিটে রাখা হয়।
বর্তমানে ইরানে আত্মগোপন করে থাকা পাইলট এই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ও বায়ুসেনা তাদের এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, বিপদের মুহূর্তে কোনো সেনাই যেন নিজেকে একা মনে না করেন। প্রযুক্তির সাথে মানসিক দৃঢ়তার মিশেলেই এখন শত্রুর ডেরায় টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন সেই মার্কিন যোদ্ধা।