ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জ্বলছে সৌদি আরবের শিল্প শহর আল জুবাইল

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিল। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আঘাতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প শহর আল জুবাইলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলিত এই হামলায় শহরের বেশ কিছু পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গেছে। যদিও সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল, তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে শিল্পকেন্দ্রগুলোতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশচুম্বী আগুনের শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে।
আল জুবাইল বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্প কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে অসংখ্য তেল শোধনাগার ও রাসায়নিক কারখানা অবস্থিত। এই হামলার ফলে স্থানীয় দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুন আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময়ের প্রয়োজন। বহুজাতিক সংস্থাগুলোর বিশাল বিনিয়োগ থাকায় এই হামলার প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের শিল্প পরিকাঠামোয় এই আঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে, যা ভারতসহ তেল আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সৌদি সরকার ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে বাড়তে থাকা এই বৈরিতা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে। বন্দর এবং শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।