ইরানের তেল ও ইউরেনিয়াম কব্জা করতে মরিয়া ট্রাম্প! যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে জানিয়েছেন, তার অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এই মন্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
খাবার তেল থেকে খনিজ সম্পদ—সবই দখলে নিতে চান ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খাগ দ্বীপ’ কব্জা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের এই দ্বীপে তেমন কোনো শক্তিশালী সুরক্ষা নেই এবং আমেরিকা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়। ফলে এখানে মার্কিন আধিপত্য কায়েম হলে বিশ্ব তেল বাজারে বিশাল প্রভাব পড়বে।
শুধু তেল নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের নজর এখন ইরানের ইউরেনিয়ামের ওপর। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান থেকে প্রায় ১০০০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে একটি বিশেষ সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। এই অভিযানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে কারণ এর জন্য মার্কিন সেনাদের বেশ কয়েক দিন ইরানের ভেতরে অবস্থান করতে হবে। ইরান যাতে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের সংখ্যা হরমজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০ করা হয়েছে। একদিকে যেমন তিনি সামরিক অভিযানের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে পাকিস্তানের দূতদের মাধ্যমে ইরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রায় ১০,০০০ সৈন্যকে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদস্যরাও রয়েছেন। ইতিমধ্যেই ৩,৫০০ সৈন্য ওই অঞ্চলে পৌঁছে গেছে এবং আরও ২,০০০ মেরিন সেনা সেখানে যাওয়ার পথে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূচনা করতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।