ইরানের নতিস্বীকার? তেহরানকে তীব্র কটাক্ষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকালীন উত্তেজনার আবহে বড়সড় কূটনৈতিক পটপরিবর্তন লক্ষ করা গেল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আর হামলা না চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তেহরানের এই অবস্থানকে কার্যত ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের লাগাতার সামরিক চাপের মুখে পড়েই ইরান পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইরান এভাবে পরাজয় স্বীকার করল। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘দাদাগিরি’র অবসান ঘটেছে এবং দেশটি এখন পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এখন রীতিমতো ‘মার খেয়ে’ ক্ষমা চাইছে। উল্লেখ্য, পেজেশকিয়ান এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন যে ইরান অন্য কোনো দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে ইচ্ছুক নয়। তবে এই ঘোষণা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
এদিকে, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও থমথমে। রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক প্রভাব ও বিশ্ব অর্থনীতির সংকটের মাঝে ইরানের এই কৌশলগত পিছু হঠা সাময়িক কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। আপাতত তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।