ইরানের নাকেবন্দিতেও হরমজ প্রণালীতে ভারতের জয়জয়কার, ছাড় পেল আরও কয়েকটি দেশ

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালীতে অঘোষিত নাকেবন্দি শুরু করেছে ইরান। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়লেও ভারতের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান অনন্য নজির গড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর ভারতীয় এলपीजी ট্যাঙ্কারগুলোকে এই জলপথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে তেহরান। বর্তমানে আরব আমিরাতের শারজাহ উপকূলে নোঙর করা ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’ নামক জাহাজ দুটি শীঘ্রই এই পথে যাত্রা করবে।
ইরানের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও ভারত ছাড়াও চীন ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজগুলো চলাচলের সবুজ সংকেত পেয়েছে। যেখানে জাপান, ফ্রান্স, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের বাণিজ্য তরী পার করার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে লড়াই করছে, সেখানে ভারতের এই অগ্রাধিকার বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে স্পষ্ট করে। বর্তমানে হরমজ প্রণালীতে আটকে থাকা অসংখ্য জাহাজের ভিড়ে কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশকেই ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিতে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তার সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।