ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি নিহত: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তেহরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় লারিজানির পাশাপাশি তার পুত্র মোর্তজা, বাসিজ বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার গোলমোরেজা সোলেমানি এবং দপ্তরের প্রধান আলিরেজা বায়াতসহ বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) এই অভিযানকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।
গত শুক্রবার কুদস দিবসের মিছিলে লারিজানিকে শেষবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি আমেরিকা লারিজানিসহ ইরানের ১০ জন শীর্ষ নেতার মাথার দাম ১ কোটি ডলার ঘোষণা করার পরই এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে তিনি এক বার্তায় আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অবিচল লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছিলেন। প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতির বিরুদ্ধেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর লারিজানির এই প্রয়াণ দেশটির জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে চালানো এই এয়ারস্ট্রাইক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।