ইরানের নৌবাহিনী তছনছ করল আমেরিকা আর তেহরানে ইজরায়েলি বিমান হামলা কি মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের সঙ্কেত

ইরানের নৌবাহিনী তছনছ করল আমেরিকা আর তেহরানে ইজরায়েলি বিমান হামলা কি মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের সঙ্কেত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। আরব দুনিয়ায় সংঘাতের ১২তম দিনে ইরানের ওপর দ্বিমুখী সাঁড়াশি আক্রমণ চালাল আমেরিকা ও ইজরায়েল। একদিকে রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে মার্কিন সেনার নজিরবিহীন বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালাল ইজরায়েলি ফৌজ।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে সবথেকে শক্তিশালী অভিযানটি চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের ১৬টি যুদ্ধজাহাজসহ একাধিক নৌযান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে জলপথে মাইন বসানোর সামান্যতম চেষ্টা করা হলেও আকাশপথে বিধ্বংসী শক্তি প্রয়োগ করবে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে আমেরিকা বড় সাফল্য পেয়েছে এবং ইরানের সামরিক শক্তি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দশ দিনে ইরানের প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। যার ফলে দেশটির অন্তত ৫০টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন তৈরির কারখানা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু করে দেওয়ার দাবি করেছে আমেরিকা।

মার্কিন অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান ও তাবরিজের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় ইজরায়েল। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ইরানের সামরিক কমান্ড কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। এদিকে ইরানজুড়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এই হস্তক্ষেপ বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *