ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী ধ্বংসের পথে, হুঙ্কার ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যবর্তী চরম উত্তেজনার আবহে এক অভাবনীয় সামরিক সাফল্যের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, গত এক মাসে মার্কিন বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী কার্যত নির্মূল হয়ে গিয়েছে এবং তাদের বিমানবাহিনী এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, চার সপ্তাহের এই অতি দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট হামলায় ইরান এমন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর আমেরিকার আর কোনো নির্ভরতা নেই। ইরানের সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির একাধিক শীর্ষ নেতা ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সদস্যদের খতম করার দাবিও করেছেন তিনি। মার্কিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা এখন তলানিতে ঠেকেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, ইরানের অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং রকেট লঞ্চ প্যাডগুলো একের পর এক ধ্বংস করা হচ্ছে। বিশেষত, ইরানের সবথেকে শক্তিশালী সামরিক ইউনিটের কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানকে যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম বড় এবং নিষ্পত্তিমূলক জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরান সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে ট্রাম্প দাবি করেন, এই প্রশাসন নিজের দেশের অন্তত ৪৫ হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে যারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। ইরানকে বিশ্বের অন্যতম হিংস্র ও গুন্ডামি চালিত শাসনব্যবস্থা হিসেবেও আক্রমণ করেন তিনি। তার মতে, এত অল্প সময়ে কোনো শত্রু দেশের ওপর এমন বিধ্বংসী প্রভাব আগে কখনও পড়েনি।
বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে ওয়াশিংটন মনে করছে। ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সামরিক বিজয়কে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছে হোয়াইট হাউস।