ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দানা বাঁধছে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আতঙ্ক

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থবারের মতো ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। শনিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ পারমাণবিক কেন্দ্রটির সন্নিকটে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। এই ঘটনায় কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত এক নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেনের জাপোরজিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের বিপর্যয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বুশেহরে লাগাতার এই ধরনের সামরিক অভিযান যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটাতে পারে। যদিও তেহরান জানিয়েছে যে পরমাণু কেন্দ্রের মূল অংশটি এখনো সুরক্ষিত আছে, তবে বারবার আঘাত আসায় জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এই উদ্ভূত পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পারমাণবিক স্থাপনা কখনো যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। তিনি সতর্ক করেন যে, মূল স্থাপনা নিরাপদ থাকলেও সংলগ্ন ভবনগুলিতে থাকা অত্যাবশ্যকীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এখনো বৃদ্ধি পায়নি। তবে ইরান সরকার এবং আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় এড়াতে বিশ্বনেতাদের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা এই সংঘাত পরমাণু নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।