ইরানের পাল্টা আঘাতে ধূলিসাৎ আমেরিকার দর্প দুই যুদ্ধবিমান ও পাঁচ হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি

ইরানের পাল্টা আঘাতে ধূলিসাৎ আমেরিকার দর্প দুই যুদ্ধবিমান ও পাঁচ হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ইরান দাবি করেছে যে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আমেরিকার দুইটি অত্যাধুনিক ফাইটার জেট এবং পাঁচটি হেলিকপ্টার গুলি করে নামিয়েছে। এই ঘটনার পর ইরানজুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং নিখোঁজ মার্কিন পাইলটদের সন্ধানদাতার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা অন্তত একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর স্বীকার করে নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর তালিকায় রয়েছে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল এবং এ-১০ ওয়ার্থগ। এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল মূলত দীর্ঘপাল্লার হামলার জন্য পরিচিত, যা শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। অন্যদিকে, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত। হোর্মুজ প্রণালীর কাছে এই আধুনিক প্রযুক্তির বিমানগুলো ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা আমেরিকার আকাশপথের একাধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে আমেরিকাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বিদ্রূপ করে বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যারা বড় বড় দাবি করেছিল, তারা এখন নিজেদের নিখোঁজ পাইলটদের খুঁজে দেওয়ার জন্য আর্জি জানাচ্ছে। তার মতে, ইরানের প্রতিরোধের মুখে আমেরিকার রণকৌশল এখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই পাল্টাপাল্টি বয়ান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততাকে এক চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

পেন্টাগন সূত্রে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানে থাকা একজন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের খোঁজ এখনো মেলেনি। এছাড়া একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার আক্রমণের শিকার হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে আমেরিকা, তবে সেটি বিধ্বস্ত হয়নি বলে তাদের দাবি। এই সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কুয়েতের একটি তেল শোধনাগার ও জলপ্রকল্পে ইরানের হামলার অভিযোগ ঘিরেও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সংঘাত মেটাতে আমেরিকার পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘকাল ধরে আকাশপথে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকার মার্কিন দাবি এখন প্রশ্নের মুখে। পাইলটদের নিখোঁজ হওয়া এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিমান ধ্বংসের এই পরিসংখ্যান বিশ্বজুড়ে এক নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সমাধান আপাতত দৃশ্যমান নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *