ইরানের বিদ্যুৎ ও জল পরিকাঠামোয় হামলা আমেরিকার জন্য বুমেরাং হতে পারে, সতর্কবার্তা আটলান্টিক কাউন্সিলের

ইরানের বিদ্যুৎ ও জল পরিকাঠামোয় হামলা আমেরিকার জন্য বুমেরাং হতে পারে, সতর্কবার্তা আটলান্টিক কাউন্সিলের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে মার্কিন প্রশাসনকে এক কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে আটলান্টিক কাউন্সিল। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে জোসেফ ওয়েবস্টার এবং জিঞ্জার ম্যাকেট দাবি করেছেন, ইরানের পাওয়ার গ্রিড বা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ নামক রণকৌশল প্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে এই রিপোর্ট জানাচ্ছে, সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য এই পরিকাঠামো ধ্বংস করলে তা আমেরিকার জন্যই বড় ধরনের কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সামরিক শক্তি মূলত নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, যা জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালালে দেশটির সেনাবাহিনীর যুদ্ধ করার ক্ষমতায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। উল্টো বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়লে ৯ কোটি ২০ লক্ষ সাধারণ ইরানি নাগরিক চরম বিপদে পড়বেন। বিশেষ করে পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল তোলা এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ায় কলেরা ও টাইফয়েডের মতো মহামারীর আশঙ্কা দেখা দেবে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের উদাহরণ টেনে লেখকরা জানিয়েছেন, এর ফলে অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয় এবং শিশু মৃত্যুর হার কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

কৌশলগত দিক থেকেও এই হামলা আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পরিপন্থী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ ইরানিরা তখন আমেরিকাকে মুক্তির দূত না ভেবে শত্রু হিসেবে গণ্য করবে, যা শাসকগোষ্ঠীর হাতকেই আরও শক্ত করতে পারে। পাশাপাশি, এই সংঘাতের আঁচ পড়বে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও। ইরানের পাল্টা হামলায় ইজরায়েল বা জিসিসি (GCC) দেশগুলোর জল পরিশোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে গোটা অঞ্চলে পানীয় জলের হাহাকার তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার চরম হুমকি দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল শোধনাগার ধ্বংস করা হলে তা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিশ্ব জ্বালানি সংকট তৈরি করবে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি গভীর মন্দার কবলে পড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে শান্ত করার বদলে সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *