ইরানের সস্তা ড্রোনে দিশেহারা আমেরিকা, বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পেন্টাগন

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে ইরানের তুলনামূলক সস্তা এবং উদ্ভাবনী যুদ্ধকৌশলের কাছে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক শক্তি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত চার সপ্তাহের সংঘর্ষে আমেরিকার কয়েক ডজন লড়াকু জেট, চারটি ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কাতারস্থ অত্যাধুনিক আর্লি ওয়ার্নিং রেডার ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমনকি পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটিকে লোহিত সাগর থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে পেন্টাগন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যেখানে কোটি কোটি ডলারের এফ-৩৫ বা এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ব্যবহার করছে, ইরান সেখানে মাত্র কয়েক হাজার ডলারের ‘শাহেদ’ ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এই বিশাল ব্যয়বৈষম্য ওয়াশিংটনের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে লড়াইয়ের প্রথম ছয় দিনেই আমেরিকার প্রায় ১,২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে, যা দেশটির সামরিক মজুতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলারের বিশেষ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে। তবে ইরানের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সস্তা অস্ত্রের জোগান তেহরানকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে। অন্যদিকে, ব্যয়বহুল মার্কিন প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পশ্চিম এশিয়ার এই সামরিক সমীকরণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। উত্তরোত্তর বাড়তে থাকা এই ক্ষয়ক্ষতি আমেরিকার কৌশলগত অবস্থানে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।