ইরানের সাথে ভারতের হাইভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে বাড়ছে জল্পনা এবার কি মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দেবেন জয়শঙ্কর

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে বর্তমান সংঘাত ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথোপকথন হয়। পরবর্তীতে সমাজমাধ্যমে জয়শঙ্কর জানান যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে উভয় পক্ষই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য কেবল কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষা নয়, বরং ইরানে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিক ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, ইরানে থাকা ভারতীয় পড়ুয়ারা চাইলে প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়ার সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরতে পারেন। তবে এই যাত্রা সম্পূর্ণ নিজেদের ঝুঁকিতে করতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
ইরানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন জয়শঙ্কর। সোমবার ইতালির বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গেও তাঁর বিশদ আলোচনা হয়েছে। তাজানি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ব বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে আগ্রহী ইতালি। উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ভারতের এই বহুমুখী কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।