ইরানের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন, ধ্বংসাত্মক হামলার হুঁশিয়ারি

ইরানের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন, ধ্বংসাত্মক হামলার হুঁশিয়ারি

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মাঝে ইরান তাদের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো ধ্বংসের দাবি করা হলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডসের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মৌসাভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দুর্বল হয়নি, বরং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় প্রায় ৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যেখানে ৪৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ৯ মার্চ সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০-এ। আমেরিকা ও ইজরায়েলের দাবি, তাদের ক্রমাগত আক্রমণে ইরানের প্রায় ৭৫ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, এটি তাদের রণকৌশলের অংশ এবং এখন থেকে তারা আরও ভারী বিস্ফোরক সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে যে যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৫৫০টি লঞ্চারের মধ্যে ৩০০টিরও বেশি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির কারণেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা কমেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, লঞ্চারের সংখ্যা কমলেও তাদের মারণক্ষমতা কমেনি। এখন থেকে কম সংখ্যায় হলেও অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ারহেড ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে আঘাত করার লক্ষ্য নিয়েছে তেহরান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *