ইরানের হামলায় মাঝসমুদ্রে দাউদাউ করে জ্বলল মার্কিন তেলবাহী জাহাজ প্রাণ হারালেন ভারতীয় নাবিক

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিল। পারস্য উপসাগরে মার্কিন মালিকানাধীন দুটি বিশালাকায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার জেরে প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইরাকের বাসরা উপকূলের আল ফাও বন্দরের কাছে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটেছে। ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামক একটি ট্যাঙ্কারে কর্মরত অবস্থায় ওই ভারতীয় জাহাজকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সমুদ্রের মাঝখানে হঠাৎই বিকট শব্দে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে দুটি জাহাজ আগুনের গোলকায় পরিণত হয়। আকাশছোঁয়া কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। মার্কিন সংস্থা ‘সেফসিজ ট্রান্সপোর্ট ইনকর্পোরেটেড’-এর মালিকানাধীন ২০০৭ সালে তৈরি ‘সেফসি বিষ্ণু’ এবং গ্রিক শিপিং কো ম্পা নির পরিচালিত ‘জেফাইরোস’ নামক ট্যাঙ্কার দুটি এই হামলার শিকার হয়। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘সেফসি বিষ্ণু’ জাহাজটি ২২৮.৬ মিটার দীর্ঘ এবং এটি অপরিশোধিত তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল।
হামলার পদ্ধতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে যে, সমুদ্রের নিচ দিয়ে আসা ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ অথবা বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকার মাধ্যমে এই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো জাহাজ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে জ্বলন্ত জাহাজ থেকে ৩৮ জন কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ভারতীয় নাবিককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং সংস্থা ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ডট কম’-এর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজ দুটিতে প্রায় ৪ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। এই বিপুল পরিমাণ তেল সমুদ্রে মিশে যাওয়ায় সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই মাসের শুরুতেও ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে একই ধরনের হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হওয়ায় এই ধারাবাহিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।