ইরানে গুলিবিদ্ধ মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু উদ্ধার শুরু করল আমেরিকা

ইরানে গুলিবিদ্ধ মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু উদ্ধার শুরু করল আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে ইরানের ভূখণ্ডে ভেঙে পড়া মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যের সন্ধান মিলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সূত্র অনুযায়ী, প্রায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘর্ষপূর্ণ অভিযানের মাধ্যমে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, ওই যুদ্ধবিমানে একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। বর্তমানে উদ্ধারকার্য শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট ক্রু সদস্যকে এখনও ইরানের ভূখণ্ডের বাইরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি, যা নিয়ে পেন্টাগনের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মধ্য ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল এবং সেটি কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে আছড়ে পড়ে। ঘটনার পর ইরানের সেনাবাহিনীও ওই নিখোঁজ মার্কিন সেনাকর্মীর খোঁজে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল। এমনকি ওই ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণাও করা হয় তেহরানের পক্ষ থেকে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে দুই মহাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা নতুন চরম শিখরে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পালটা আঘাত হানতে আমেরিকা তাদের অত্যাধুনিক জেএএসএসএম-ইআর (JASSM-ER) ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মজুত থাকা এই বিধ্বংসী মিসাইলগুলো দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনা হচ্ছে। প্রায় ৬০০ মাইলেরও বেশি পাল্লার এই মিসাইল শত্রুপক্ষের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও আমেরিকার ভাণ্ডারে বর্তমানে কার্যকর মিসাইলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবুও বর্তমান সংঘাতে এই ব্রহ্মাস্ত্র বড় কৌশলগত মোড় ঘোরাতে পারে।

নিখোঁজ সেনাকর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনা এখন মার্কিন প্রশাসনের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। উদ্ধারকারী দল ও পাইলটদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই অঞ্চলে সামরিক নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ইরানের আকাশসীমায় এই সংঘাত এবং মার্কিন মিসাইল মোতায়েনের খবর আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধের পদধ্বনি আরও তীব্র করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ধার অভিযানের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সমীকরণ নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *