ইরানে ‘জয়’ ঘোষণা করেও সেনা সরাচ্ছেন না ট্রাম্প, পরবর্তী যুদ্ধের হুঙ্কারে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানে ‘জয়’ ঘোষণা করেও সেনা সরাচ্ছেন না ট্রাম্প, পরবর্তী যুদ্ধের হুঙ্কারে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরান যুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়ের ঘোষণা দিয়েও রণক্ষেত্র থেকে সেনা সরাচ্ছে না আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধজয়ের দাবি করলেও তাঁর দেশের সমস্ত যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং সেনাবাহিনী বর্তমানে যেখানে মোতায়েন আছে, সেখানেই থাকবে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ রণক্ষেত্রে এক অপ্রতিরোধ্য সাফল্য এনে দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত মেলায় বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আহত শত্রুকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে মার্কিন ফৌজ সর্বদা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী রক্ষার্থে সেনা পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ট্রাম্পের কথায়, “আমাদের সেনা বর্তমানে বিশ্রামে নেই, বরং পরবর্তী যুদ্ধের জন্য জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে।” এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য কি আবারও ইরান, নাকি নতুন কোনো দেশ?

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের আগে ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ এবং কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী হুমকিগুলো বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প পরবর্তী যুদ্ধের জন্য মুখিয়ে থাকার কথা বলায় কিউবা বা ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো তাঁর নিশানায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর হামলার পর হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমেরিকাকে যথেষ্ট প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

যুদ্ধের শুরু থেকেই ওয়াশিংটন একাধিক পরস্পরবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। কখনো তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, আবার কখনো তারা চেয়েছে দেশটির শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। বর্তমানে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার দাবি করলেও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের শক্ত অবস্থানের কারণে মার্কিন কৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। হুঙ্কার দিলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সরাসরি সংঘাতে জড়াবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *