ইরানে পরমাণু কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা! তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আতঙ্কে জনশূন্য হচ্ছে একের পর এক শহর

ইরানে পরমাণু কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা! তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আতঙ্কে জনশূন্য হচ্ছে একের পর এক শহর

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার চরম ভয়াবহ রূপ নিল। ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের আবহে খোদ ইরানি পরমাণু কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা ইরান জুড়ে পরমাণু তেজস্ক্রিয়তার (Radioactive Radiation) আতঙ্ক তুঙ্গে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি একে ‘চরম উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বড় শহরগুলো দ্রুত খালি করার কড়া বার্তা দিয়েছেন।

তেজস্ক্রিয় সুনামির আশঙ্কা এবং গ্রোসির সতর্কতা

রাফায়েল গ্রোসি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে তেজস্ক্রিয় লিকেজের সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, তেহরানের মতো জনবহুল শহরগুলো থেকে দ্রুত সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া জরুরি। যদিও কোনো পরমাণু কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার খবর এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় রহস্য ও আতঙ্ক দুই-ই বাড়ছে।

বিপাকে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের উদ্বেগ

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সীমান্ত এলাকায় আপাতত বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও সরজমিনে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের যাওয়া একান্ত প্রয়োজন। গ্রোসি অবিলম্বে যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আর্জি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের দাবি, এই হামলায় ইতিমধ্যে ৩০০-র বেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং তারা পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র থেকে যদি একবার রেডিয়েশন শুরু হয়, তবে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাতাসের গতির সঙ্গে এই বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় কণা ভারতেও পৌঁছে যেতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। আপাতত গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে তেহরানের দিকে, যেখানে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে এক অদৃশ্য পরমাণু যুদ্ধের হাতছানি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *