ইরানে মার্কিন উদ্ধার অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র, ৫ সেনার মৃত্যুর দাবি তেহরানের

ইরানে মার্কিন উদ্ধার অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র, ৫ সেনার মৃত্যুর দাবি তেহরানের

ইরানের আকাশসীমায় ভেঙে পড়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকা তাদের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধারের দাবি করলেও, পাল্টা কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে আমেরিকাকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। তাদের জবাবি হামলায় পেন্টাগনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, নিখোঁজ পাইলটকে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে চালানো এই বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছিল আমেরিকার একটি সি-১৩০ এয়ারক্রাফটসহ একাধিক উন্নত প্রযুক্তির বিমান। তবে ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করতেই কড়া প্রতিরোধের মুখে পড়ে মার্কিন বাহিনী। ইরানের জবাবি হামলায় আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সি-১৩০ বিমানটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেই সঙ্গে অন্যান্য আকাশযানেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

এই সংঘাতের ফলে মার্কিন বাহিনীর বড়সড় প্রাণহানির দাবিও করেছে ইরান। তেহরানের সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে আসা ৫ জন মার্কিন সেনা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে আমেরিকার সামরিক কৌশলের বড় ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে উদ্ধার কাজ চালানোর চেষ্টা সফল হয়নি।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন তাদের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের পাইলটকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ইরানের দাবিকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখনও নীরব রয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ৫ সেনার মৃত্যু বা সি-১৩০ এয়ারক্রাফট ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য করা হয়নি। এই নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে রহস্য ও ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার এই মুখোমুখি অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় নিয়েছে। যেখানে একদিকে আমেরিকা তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান পালটা আঘাতের মাধ্যমে নিজেদের আকাশসীমার সুরক্ষা জাহির করছে। সি-১৩০-এর মতো শক্তিশালী বিমান ধ্বংসের দাবি সত্য হলে এটি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

এই পাল্টাপাল্টি দাবির ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়া থেকে শুরু করে পাইলট উদ্ধার এবং পরবর্তী এই সংঘর্ষের ঘটনায় গোটা বিশ্ব এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করা হলে এর ফল হবে ভয়াবহ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *