ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি রুখতে চরম হুঁশিয়ারি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও হাজার হাজার সেনা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা এবং শক্তিশালী রণতরী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ ইতিমধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছেছে। পেন্টাগনের এই তৎপরতা ইরানের ওপর একটি বড় মাপের স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার মার্কিন বাহিনীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, বিদেশি শত্রুসেনা যদি ইরানের ভূখণ্ডে পা রাখার চেষ্টা করে, তবে তাদের একজনকেও জীবিত ফিরতে দেওয়া হবে না। তেহরান যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ২৫০০ মেরিন সেনাসহ ইউএসএস ত্রিপোলি দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা শুরু করে এখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে। উপগ্রহ চিত্রে এই দানবীয় যুদ্ধজাহাজের সাথে আরও দুটি রণতরীকে দেখা গিয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে এখনও স্থল অভিযানের চূড়ান্ত আদেশ আসেনি, তবে অন্তিম আঘাত হানার রূপরেখা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে খবর।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসও মার্কিন সেনাদের জন্য প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছে। তাদের বার্তায় জানানো হয়েছে, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েই বসে আছে। সেনাপ্রধান হাতামি এই প্রসঙ্গে যোগ করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে অনিরাপদ রেখে অন্য কোথাও শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। ইরানের সীমান্ত রক্ষা করতে তারা বদ্ধপরিকর।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেও সেনার এই ব্যাপক সমাগম বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরানের অনমনীয় অবস্থান এবং একের পর এক হুমকির ফলে গোটা বিশ্ব এখন এই দুই শক্তির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।