ইরান আমেরিকা যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে চীন নেপথ্য কারিগর হিসেবে ইসলামাবাদকে ছাপিয়ে বেজিংয়ের উত্থান

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ সাময়িকভাবে সরে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ও আমেরিকা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউস এই সাফল্যের কৃতিত্ব পাকিস্তানকে দিতে চাইলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, পর্দার আড়ালে আসল কলকাঠি নেড়েছে চীন।
ট্রাম্পের সুরবদল ও চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকির পর হঠাৎ ট্রাম্পের নমনীয় অবস্থান বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। জানা গেছে, ইসলামাবাদ নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরে চলতি মাসের শুরুতেই বেজিংয়ের শরণাপন্ন হয়। এরপরই চীন সরাসরি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দৌত্য শুরু করে। খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রক্রিয়ায় চীনের ভূমিকার কথা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন। চীনের সরকারি কোনো বিবৃতি না থাকলেও জানা গেছে, চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং লি এই সংকট মেটাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ২৬ বার ফোনালাপ করেছেন।
পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক
যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের কৃতিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। পোস্টটিতে ভুলবশত ‘ড্রাফট’ বা খসড়া শব্দটি থেকে যাওয়ায় অনুমান করা হচ্ছে যে, সেটি আমেরিকার তৈরি করে দেওয়া বয়ান ছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এখানে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয় বরং আমেরিকার ‘সহায়তাকারী’ হিসেবে কাজ করেছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- গ্রহণযোগ্যতার অভাব: ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, যা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়েছে।
- ইরানের অনাস্থা: ইরানও পাকিস্তানকে নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেনি।
- আমেরিকার প্রভাব: শাহবাজ শরিফের পোস্টটি মূলত মার্কিন চাপে দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করছেন সাংবাদিক রায়ান গ্রিম।
কেন চীনের এই সক্রিয়তা
আগামী মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেজিং সফরের কথা রয়েছে। তার আগেই পশ্চিম এশিয়ায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতে চীন এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়েও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের এই সাফল্য বিশ্বমঞ্চে বেজিংয়ের কূটনৈতিক শক্তিকে আরও সুসংহত করল।